ধর্ম ডেস্ক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দেশের ইসলামি রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামি ইতিহাসে হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লকহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদীনরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শরিয়া আইনের ভিত্তি অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আমির ও উমরা রাষ্ট্র প্রশাসনে শরিয়া আইনকে মান্য করেছেন।
মাওলানা ইউসুফী তার বক্তব্যে জানান, “ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করবেন না” এমন মন্তব্য ইসলামের মৌলিক বিধানের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে ধরা যেতে পারে। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম মুসলিম উম্মাহকে প্রতিষ্ঠাতাদের ভ্রান্ত আকিদা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছেন। বর্তমান সময়েও ইসলামের নামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জনগণকে প্রতারণার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমিয়ত স্বাভাবিকভাবেই সেক্যুলার কোনো ব্যক্তির বিতর্কিত বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানায়। তবে ইসলামের পরিচয় বহনকারী কোনো দল বা ব্যক্তি যদি এ ধরনের মন্তব্য করে, তখন জনগণকে সতর্ক করার প্রয়োজন আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। মাওলানা ইউসুফী এই প্রসঙ্গে বলেন, জনগণকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামের মূলনীতির প্রতি সচেতন রাখাই জমিয়তের দায়িত্বের অংশ।
বিবৃতিতে মাওলানা ইউসুফী শরিয়া আইন ও ইসলামের মৌলিক নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করান যে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান ও নীতি মান্য করা সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সম্প্রতি বিভিন্ন আলোচনায় ইসলামের নামে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় মূল্যবোধের রক্ষা এবং মুসলিম সমাজে নৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। মাওলানা ইউসুফী বলেন, ইসলামের মূলনীতি মেনে রাজনীতি পরিচালনা করলে দেশের সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি সম্প্রতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও আলেমদের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ইসলামের ইতিহাসে সবসময়ই ধর্ম ও রাজনীতির মিলন সমাজে স্থিতিশীলতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে।
এই মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে মাওলানা ইউসুফী দেশবাসীকে সতর্ক করার পাশাপাশি ইসলামের নীতি ও শরিয়া আইনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইসলামের মৌলিক নীতির প্রয়োগ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের এই অবস্থান দেশের ইসলামি রাজনীতিতে শরিয়া আইন সংক্রান্ত বিতর্ক ও আলোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইসলামের নীতি ও আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উলামায়ে কেরাম ও ধর্মগুরুদের মন্তব্যও এই প্রেক্ষাপটকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে।


