খালেদা জিয়ার শাসনামলে পিএসসিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি সাবেক চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজের

খালেদা জিয়ার শাসনামলে পিএসসিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি সাবেক চেয়ারম্যান এসএমএ ফায়েজের

রাজনীতি ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মেধাভিত্তিক ছিল বলে দাবি করেছেন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ। তিনি বলেন, ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা রাজনৈতিক কোনো মহল থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ, সুপারিশ বা তালিকা দেওয়ার নজির তার জানা নেই। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, কূটনৈতিক মহল, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন ও ব্যবসা খাতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শোকসভায় খালেদা জিয়ার কর্মজীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি স্মৃতিচারণ করা হয়।

অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ তার বক্তব্যে বলেন, পিএসসির দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বাধীনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়নি। তার ভাষায়, খালেদা জিয়ার তরফ থেকে কোনো সময় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল না। তিনি বলেন, কোনো লিখিত বা অলিখিত তালিকা কিংবা ব্যক্তিগত সুপারিশ পিএসসিতে আসেনি এবং কমিশন নিজস্ব বিধি-বিধান ও পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই সময়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, সেই নীতির ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা ক্যাডার কর্মকর্তারা পরবর্তীতে প্রশাসন ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অধ্যাপক ফায়েজ বলেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রশাসনিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।

শোকসভায় উপস্থিত বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সরকারের দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আলোচনায় তার শাসনামলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চা এবং দলীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও প্রভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও শোকসভায় যোগ দেন। তারা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পাবলিক সার্ভিস কমিশন দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সাবেক চেয়ারম্যানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, পিএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ অতীত প্রশাসনিক চর্চা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও এসব দাবি যাচাই ও মূল্যায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক নথি, নিয়মনীতি এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন। শোকসভায় উত্থাপিত বক্তব্যগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনােও প্রাসঙ্গিক হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

শোকসভা শেষে আয়োজকেরা জানান, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্মরণে এ ধরনের নাগরিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ