নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

রাজনীতি ডেস্ক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনকালে কোনো পুলিশ সদস্য কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর প্রতিনিধি কিংবা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না। এ নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে দেশের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের লুট হওয়া কোনো অস্ত্র ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি জানান, নির্বাচনকালে অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে আছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো নিয়মিত উদ্ধার করা হচ্ছে, ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। তাদের সবার কাছ থেকেই পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ নেই। আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হবে।

দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগের তুলনায় দেশে জঙ্গি ও চরমপন্থি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার ভাষায়, জঙ্গিবাদ বর্তমানে প্রায় নেই বললেই চলে। তবে তিনি জানান, কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি দেশের বাইরে অবস্থান করছে। এসব ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন, ২৮তম বিসিএসের ১ জন, ৩৫তম বিসিএসের ৩ জন, ৩৬তম বিসিএসের ১ জন, ৩৭তম বিসিএসের ২ জন এবং ৪০তম বিসিএসের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে নির্বাচিত হন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ। বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ নির্বাচিত হন সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হিসেবে পুরস্কার পান সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজ হাতে তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ছিল নিবিড় ও বহুমাত্রিক। প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত হবেন। মাঠপর্যায়ের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ