অনলাইন ডেস্ক
ইরান সরকার দেশজুড়ে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ধাপে ধাপে ইন্টারনেট সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রোববার সকালে তেহরানে তাদের কার্যালয় থেকে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। তবে দেশটির অধিকাংশ ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী এবং মোবাইল ইন্টারনেট এখনও বন্ধ রয়েছে। সীমিত এই সংযোগ কিভাবে সম্ভব হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত মঙ্গলবার থেকে আন্তর্জাতিক আউটগোয়িং কল চালু হয়েছে এবং শনিবার সকালে এসএমএস সেবাও পুনরায় কার্যকর হয়েছে। তবে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শনিবার রাতে জানিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হবে, কিন্তু সংযোগের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি বা সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নজিরবিহীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয়। কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে টেক্সট মেসেজ, আন্তর্জাতিক ফোন কল এবং কখনো কখনো স্থানীয় কলও বন্ধ ছিল, যা দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ ধীরে ধীরে কার্যকর করা হলে তথ্য প্রবাহ ও সরকারি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে। তবে দীর্ঘদিনের সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে, ইন্টারনেট ব্যবহারের সীমিত অবস্থা সাধারণ জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইন্টারনেট পুনঃসংযোগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে জনগণের দৈনন্দিন জীবন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার আশা করা হচ্ছে।


