গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে উপদেষ্টার বক্তব্য

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে উপদেষ্টার বক্তব্য

জাতীয় ডেস্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী অবস্থানে থাকা শক্তি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহল বর্তমানে গণভোটকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, যারা অতীতে এই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তারা সেই অবস্থান স্পষ্ট করবে। তাঁর মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত সরাসরি প্রতিফলিত হবে, যা সরকারের রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে এবং বিভিন্ন সংগ্রামী গোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোট কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি জনগণের মতামত জানার একটি সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের ভোটের মাধ্যমে সরকারের প্রতি সমর্থন বা মতামত প্রকাশ করবে।

এ সময় তিনি গণভোটকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ালে তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সরকার এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আলোচনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক বক্তব্য ও কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নটি গণভোটের মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার জনগণের সরাসরি সমর্থন যাচাই করতে চায় বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ