চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতাধীন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন লাইনে রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজ সম্পন্ন করতেই এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বায়োজিদ শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লিপটন গার্মেন্টস, রেনেস্কো গার্মেন্টস, এম কে স্টীল, খন্দকিয়া বাজার ও খন্দকিয়া টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকা। এছাড়া মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া, কেডিএস গার্মেন্টস থেকে শেরশাহ এলাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। পাহাড়িকা আবাসিক এলাকা, ভেড়া ফকির, সমবায় আবাসিক, সাংবাদিক সোসাইটি, মোহাম্মদ নগর ও শান্তি নগর এলাকাও এই সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আওতায় পড়বে।
এ ছাড়া রাজামিয়া মার্কেট, শেরশাহ কলোনি, তারা গেইট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন এলাকা, পদ্মা প্লাস্টিক, চক্রশো কানন, ধূপ পোল, কুয়াইশ, ভরা পুকুর, নজুমিয়া হাট ও তেঁতুলতলা এলাকাতেও নির্ধারিত সময়জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। মধ্যম বুড়িশ্চর, বুড়িশ্চর বাজার, উত্তর ও দক্ষিণ বুড়িশ্চর, ফকিরের দোকান, রশিদ বাড়ি, খালেকের হাট, আজিজিয়া মাজার ও এর আশপাশের এলাকাগুলোও এই পরিকল্পিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্তর্ভুক্ত।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এসব এলাকায় অবস্থিত শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে ঘোষিত সময়সূচির বাইরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা নেই বলেও জানানো হয়েছে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে সম্প্রতি লোড বৃদ্ধি পাওয়ায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো লাইনের সংস্কার, ট্রান্সফরমার ও ফিডার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে কাজ সম্পন্ন না করলে ভবিষ্যতে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই মেরামত ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের মান উন্নত হবে এবং লোডশেডিং বা আকস্মিক বিভ্রাটের ঘটনা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিতরণ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন ও কার্যক্রম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


