জাতীয় ডেস্ক
দেশের আকাশে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সে অনুযায়ী হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সব তথ্য পর্যালোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ের দপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার বিষয়ে যে তথ্য ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন এসেছে, সেগুলোর কোথাও শাবান মাসের নতুন চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশে মেঘের উপস্থিতি এবং দৃষ্টিসীমা সীমিত ছিল। পাশাপাশি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণেও ওই সময় চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলে পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পবিত্র রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং পরদিন বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস শুরু হবে। ফলে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।
ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, শাবান মাস রমজান মাসের আগের মাস। এই মাসটি মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে মুসলমানদের মধ্যে ‘শবে বরাত’ নামে অভিহিত করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই রাতকে কল্যাণ ও ক্ষমার রাত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং অনেক মুসলমান এই রাতে নফল ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেন।
ধর্মীয় সূত্রগুলোতে বলা হয়েছে, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মুসলমান সমাজে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও প্রস্তুতির প্রচলন রয়েছে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে থাকে।
শাবান মাসকে অনেক মুসলমান পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতির সময় হিসেবেও বিবেচনা করেন। কারণ শাবান মাস শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজান। এ কারণে ধর্মীয়ভাবে সচেতন মুসলমানদের একটি অংশ এই মাস থেকেই আত্মসংযম, ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি এবং রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকেন।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখ অনুসারেই দেশব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


