ধর্ম ডেস্ক
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিদ্যমান সংকট বিবেচনায় সারা দেশে অনুষ্ঠিতব্য সব ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মুফতি আমির হামজা। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। এর ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত তার সব ধর্মীয় মাহফিল আপাতত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুফতি আমির হামজা তার ঘোষণায় জানান, পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ধর্মপ্রাণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই সকল ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত তার মাহফিলগুলোতে সাধারণত বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও শ্রোতার সমাগম ঘটে। এ ধরনের বড় জমায়েতে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব আয়োজক কমিটি ইতোমধ্যে মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল, তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে, অনেক এলাকায় মাঠ, মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। আয়োজকদের সম্ভাব্য আর্থিক ও সাংগঠনিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বিষয়ে কোনো আপস করা হয়নি।
ধর্মীয় অঙ্গনে মুফতি আমির হামজার ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিলগুলোতে কোরআন-হাদিসভিত্তিক আলোচনা, সমসাময়িক সামাজিক বিষয় এবং নৈতিক শিক্ষা গুরুত্ব পেয়ে থাকে। তার মাহফিলগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নিয়ে থাকেন। ফলে এই স্থগিতাদেশ ধর্মীয় অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠন ও বক্তাদের ক্ষেত্রেও সতর্কতার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে অনেকে নিয়মিতভাবে এসব মাহফিলে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে অনেকে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তাদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় মাহফিল আয়োজন করা যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে এলে নতুন করে মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধর্মীয় কর্মসূচি পরিচালনায় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


