রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহদী আমিন এবং চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলী। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। তবে আলোচনার বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
কূটনৈতিক মহলে এ সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত এমন সাক্ষাতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে মতবিনিময় করা হয়ে থাকে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দলের নীতিনির্ধারণী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিএনপি নেতারা উল্লেখ করে থাকেন। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বের কথা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করে আসছে।
বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি নেতারা জানান, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল এবং আলোচনার পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এ বৈঠক থেকে আসেনি। বরং পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যোগাযোগ ও বোঝাপড়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাস্থ কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বহুমাত্রিক ধারণা লাভ করেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের এই সৌজন্য সাক্ষাৎও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


