শিক্ষা ডেস্ক
হিজাব ও নিকাব পরিধান নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের দুই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কৃতরা হলেন—সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিন। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বহিষ্কারাদেশ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রয়োজনীয় নথিভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব পরিধানকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ, শ্রেণিকক্ষে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে তদন্ত ও পর্যালোচনার পর তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাঙ্গনের নীতিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা এর আগে একাধিক কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, লায়েকা বশীর ক্লাস চলাকালে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব ও নিকাব পরিধান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, নামাজে বাধা দিয়েছেন এবং নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি করেছেন। পরীক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক মূল্যায়নের অভিযোগও তোলা হয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, এসব ঘটনার কিছু ভিডিও ও নথিভিত্তিক প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, যা প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতির অবসান এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জুমার নামাজের পর কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদের সঙ্গে এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এ ঘটনাও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও পক্ষপাতের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পৃথকভাবে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি টেকসই, মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন। তারা ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ যাতে আর না ওঠে, সে জন্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেন।
ইউএপি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষাই তাদের অগ্রাধিকার। অভিযোগের বিষয়ে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলা ও সমতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


