রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস এবং পরবর্তী সময়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ কারণে দেশের ভবিষ্যৎ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্নে তিনি আপস করতে চান না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক হলেও অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে হেয় করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সহায়ক নয়।
আলোচনাসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা ও অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংযম বজায় রাখার কথাও জানান।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিতর্কে জড়াতে চান না। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ঠিকানা স্পষ্ট এবং তিনি দেশের রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশের জনগণের স্বার্থে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দলটি সেই আদর্শকে ধারণ করেই রাজনীতি করে যাচ্ছে।
আলোচনাসভায় বিএনপির অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান। তাঁরা বলেন, জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং তাঁর আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ারও একটি উপলক্ষ।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করা হয় এবং তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


