ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে কমিটির প্রথম সভা। সভায় ছয়জন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় বিশেষভাবে সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগের গঠন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যেই ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত নীতি সমন্বয় করার জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’ একত্র করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম ‘Ministry of Women and Children Affairs’ অপরিবর্তিত থাকবে।
পরিবেশ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলায় ‘পুর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ‘পুর্বাচল দক্ষিণ’ এবং কক্সবাজার জেলায় ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নরসিংদী জেলায় ‘রায়পুরা’ থানাকে ভেঙে আরও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
এছাড়া, ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ভুল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধন করে ‘ভূল্লী’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় অনুমোদিত এই পদক্ষেপগুলো দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্দেশ্য বহন করছে। নতুন বিভাগ ও থানার মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা জনগণের নিকট পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।


