ক্রীড়া ডেস্ক
কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে ভারতসহ আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে নানা জল্পনা চলেছে। তবে বাংলাদেশ ক্রীড়া সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট; তারা অযৌক্তিক চাপের মধ্য দিয়ে ভারতে খেলার জন্য বাধ্য করা যাবে না।
বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “অযৌক্তিক চাপ দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতে খেলাতে বাধ্য করানো যাবে না। এর আগেও উদাহরণ আছে যে, পাকিস্তানের দাবির কারণে ভেন্যু পরিবর্তন করেছে আইসিসি।” তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পরিবর্তিত কোনো পরিকল্পনা অনুসারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে নেয়া হচ্ছে এমন কোনো তথ্য পাননি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল আয়োজক দেশ হলো ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, তারা ভারতে খেলবে না এবং নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছে আইসিসিকে। তবে ঢাকায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরও কোনো চূড়ান্ত সমাধান গ্রহণ করা যায়নি।
অপরদিকে, যদি আইসিসি বাংলাদেশের স্থলে অন্য কোনো দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, তবে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দলের মধ্যে স্কটল্যান্ড সেই সুযোগের দাবিদার হবে। স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ পরিবর্তিত হলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেতে পারে। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা সিদ্ধান্ত এখনও নেই।
এর আগে ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ে বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। সেই সময় তাদের স্থানে ‘পরবর্তী সেরা’ দল স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, বর্তমান পরিস্থিতি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রজ্ঞাপন হয়নি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা, ক্রীড়াবিষয়ক নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার নিয়মাবলীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এই সপ্তাহে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত বা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।


