সাভারে সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’র আসল পরিচয় প্রকাশ, ৬ খুনের স্বীকারোক্তি

সাভারে সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’র আসল পরিচয় প্রকাশ, ৬ খুনের স্বীকারোক্তি

জাতীয় ডেস্ক

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ মশিউর রহমান সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার আশপাশে নিয়মিত ঘোরাফেরা করা সম্রাট নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ ও ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে দাবি করলেও, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বড় বোনের নাম শারমিন। স্থানীয়ভাবে তাদের পরিবারকে ভয়ংকর ও ডাকাত ফ্যামিলি হিসেবে পরিচিতি ছিল।

পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ নিজ পরিচয় গোপন করে ভবঘুরে নারীদের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসতো পরিত্যক্ত ভবনে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর হত্যা করতো। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে এসব নারীর অন্য কারও সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক হলে হত্যা করত।”

গত রবিবার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সংঘটিত জোড়া হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সবুজ শেখকে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া হয়েছে। জবানবন্দিতে সে ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালত তাকে রাতেই জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ হত্যার কয়েকদিন আগে তানিয়া আক্তার নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে রেখে হত্যা করে। প্রথমে তাকে দ্বিতীয় তলার দোতলায় হত্যা করে, এরপর লাশ কাঁধে করে নিচতলায় নিয়ে গিয়ে টয়লেটে রেখে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, নিহত তানিয়া আক্তার মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং উত্তরায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ১ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাভার মডেল থানার আশপাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব রেজিস্ট্রার অফিস, কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড়ে ঘোরাফেরা এবং রাত্রি যাপন করত। গ্রেপ্তারের সময় সে তার নাম, বাবার নাম ও মাতার নামসহ ব্যাংক কলোনী এলাকার ঠিকানা উল্লেখ করলেও তা সত্যতা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সে নিয়মিত থানার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, বিভিন্ন সময় পুলিশের পোশাক ও আনুষঙ্গিক উপকরণ পরে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা, চৌরাস্তা মোড়ের বিক্রেতা এবং অন্যান্য স্থানীয়রা তার অস্বাভাবিক ও অসংগঠিত আচরণের কথা উল্লেখ করেছেন।

গ্রেপ্তারের আগে সে কাশিমপুর-২ কারাগারের ৬০ নম্বর সেলে আটক ছিল। কারাগারে সে একা একা বিড়ি খেত, নিজের মতো করে চলাফেরা করত এবং অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাভার মডেল মসজিদের আশেপাশে ও কমিউনিটি সেন্টারে একাধিক অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মধ্যে কয়েকজন পুরুষ ও নারী রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোব্যবস্থা বৃদ্ধি করেছে। শেষ পর্যন্ত দুটি পোড়া লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে সবুজ শেখকে শনাক্ত করা হয় এবং গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ