আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি শহরের একটি কারাগার থেকে আইএসআইএল (আইএস) সদস্যদের পালানোর ঘটনা ঘটেছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর ভিন্ন ভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে পালানো বন্দির সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ১২০ এবং প্রায় ১,৫০০ জন।
কারাগার পালানোর ঘটনা তখন ঘটে যখন সিরিয়ান সেনাবাহিনী এবং এসডিএফের মধ্যে শহরের আশপাশে সংঘর্ষ চলছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারাগার থেকে পলাতকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জনকে পুনরায় আটক করা হয়েছে এবং বাকি পলাতকদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসডিএফের মুখপাত্র ফারহাদ শামি দাবি করেছেন, সেনাবাহিনীর হামলার কারণে তারা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায়, যার ফলে আইএসআইএল সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসডিএফ আরও জানিয়েছে, আল-আকতান কারাগারের আশপাশে সংঘর্ষে তাদের নয়জন সদস্য নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে সিরীয় সেনাবাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার বরাত দিয়ে জানা গেছে, কারাগার পালানোর পর আল-শাদ্দাদি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং শহর ও কারাগারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন সেনাবাহিনীর হাতে। সেনারা পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের খোঁজে শহর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
সিরিয়ান অপারেশনস অথরিটি জানিয়েছে, রাক্কার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-আকতান কারাগার এবং শহরের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে হস্তান্তর করা হবে। তারা আরও দাবি করেছে, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু আইএস সদস্যদের মুক্তি দিয়েছে।
ঘটনাটি সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইএস পুনর্জাগরণের সম্ভাবনার দিকে সতর্ক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পলাতক আইএস সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত ও আটক করা না গেলে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল আইএসের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর জোরালো নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব আবারও浮িয়েছে।


