আইন আদালত ডেস্ক
কুমিল্লা-৪ সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ওই আসনে তার প্রার্থিতা বহাল থাকছে না।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গত ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরদিন ২০ জানুয়ারি রিটটির শুনানির জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়। নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিট আবেদন খারিজের আদেশ দেন।
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী মো. ফয়েজুল্লাহ ফয়েজ আদালতকে জানান, প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় ঋণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সম্পূর্ণ ও সঠিকভাবে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। তথ্য গোপন বা অসত্য বিবরণ প্রদান করলে মনোনয়ন বাতিলযোগ্য বলে আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঋণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং বিধি অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
অন্যদিকে রিট আবেদনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেন, তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সঠিক নয় এবং তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে রিট আবেদন খারিজের আদেশ দেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় মনোনয়নপত্র দাখিল ও যাচাই-বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা, ঋণখেলাপি অবস্থা, আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এসব তথ্য গোপন বা ভুল প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনের প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে। অতীতেও এ ধরনের তথ্যগত ত্রুটির কারণে বিভিন্ন আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে হলফনামায় সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত সাধারণত নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে না, যদি না সিদ্ধান্তে স্পষ্ট আইনগত ত্রুটি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হয়।
এদিকে রিট খারিজের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইন অনুযায়ী, তিনি আপিল বিভাগে এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। তবে আপিল দায়ের ও তার শুনানির ফলাফলের ওপরই পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। প্রার্থিতা সংক্রান্ত এ আদেশের ফলে আসনটির নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন আপিলের মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় আদালতে ওঠে কি না এবং সে ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের।


