নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশে কর্মরত নিজেদের কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আওতায় ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সব সহকারী হাইকমিশন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দেশটির প্রধান হাইকমিশনের পাশাপাশি খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত সহকারী হাইকমিশনগুলো থেকেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। এসব মিশনে কর্মরত কূটনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ভারত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। ঢাকার হাইকমিশন এবং অন্যান্য সহকারী হাইকমিশন যথারীতি খোলা থাকবে এবং নিয়মিত কনস্যুলার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভিসা সেবা, নাগরিক সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এনে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচনপূর্ব সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কখনো কখনো সংবেদনশীল হয়ে ওঠে—এ বিষয়টিও ভারতের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা আরও জানান, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার রাখার বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক কর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। কোনো দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচন বা নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তা দেখা দিলে অনেক দেশই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে থাকে। এতে কূটনৈতিক সম্পর্ক বা রাষ্ট্রীয় যোগাযোগে ছেদ পড়ে না, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কৌশল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও প্রতিবেশী সম্পর্ক বিদ্যমান। বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল কাঠামো বা নিয়মিত যোগাযোগে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাংলাদেশে কর্মরত কূটনৈতিক মিশনের কার্যক্রম এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ