ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার পর্ব শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র পরিচয় অনুযায়ী প্রতীক প্রদান করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে ১৩ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জনে। এই প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীক পেয়েছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী পছন্দক্রম অনুসারে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্বাচনী কার্যক্রমে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম হলো। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা আরও গতিশীল হবে। প্রার্থীরা এখন নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ লক্ষ করা যাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোটারদের সামনে বিকল্প প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় নির্বাচনী পরিবেশে বৈচিত্র্য তৈরি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী ‘হাঁস’ প্রতীক প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কোনো প্রকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অংশ নিচ্ছেন। তাকে তার দলীয় প্রতীক ‘মাথাল’ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই আসনেও একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ায় এখন প্রার্থীরা নির্বাচনী ইশতেহার, গণসংযোগ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রমে মনোযোগ দিচ্ছেন। আগামী দিনে প্রার্থীদের বক্তব্য, কর্মসূচি এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ