রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে ‘হাঁস’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আসনটিতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট রূপ পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলকারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্য থেকে রুমিন ফারহানাকে নির্বাচন বিধিমালা অনুসারে হাঁস প্রতীক দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্রতীক পাওয়ার পর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। একই সঙ্গে নির্বাচনকালে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা আইনভঙ্গ হলে তা নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ আসনে বিভিন্ন সময় জাতীয় পর্যায়ের দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখানকার ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা এখন প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারের সময় কোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রশাসনিক কাজে বাধা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও দৃশ্যমান হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার অংশগ্রহণ আসনটিতে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে প্রার্থী চূড়ান্তকরণ ও প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম চলছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।


