হরিণাকুন্ডুতে নির্বাচনী সভায় ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সমর্থনের ঘোষণা

হরিণাকুন্ডুতে নির্বাচনী সভায় ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সমর্থনের ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার রিশখালী বাজারে আয়োজিত ওই সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় বক্তব্যে স্থানীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাব্দার রহমান জানান, তাঁদের ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।

সভা শেষে ছাব্দার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে যে অবস্থান রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিএনপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানকে তিনি ব্যক্তিগত ও স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঝিনাইদহ-২ আসনটি ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা নিয়ে গঠিত। অতীতে এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মজিদ অতীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সময়ে কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এম এ মজিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পক্ষে মতামত প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সভায় উপস্থিত জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী এম এ মজিদ বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব ভোটারকে তিনি স্বাগত জানাবেন। তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহযোগিতা করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আনিচুর রহমান সভায় বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য সমর্থনের ঘোষণাকে ঘিরে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্য ও অবস্থান রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ তাঁদের ব্যক্তিগত অধিকার।

আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-২ আসনে ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের হার কেমন হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ