রাজনীতি ডেস্ক
কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রধান দল হিসেবে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলেছে। কক্সবাজার-১, ৩ ও ৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শক্তিশালী ও জনপ্রিয়, যা ওই আসনে তাদের সহজ জয় নিশ্চিত করতে পারে। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও, বিএনপির প্রাধান্য এখানে মূলত দৃঢ় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কক্সবাজার-১ আসনটি চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদও একবার সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই আসনটি প্রধানত বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাসিনা আহমদ। এবারের নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের কক্সবাজার শহর শাখার আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক, যিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সরওয়ার আলমও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে প্রথমবারের প্রার্থী কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন তা নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
কক্সবাজার-২ আসনটি মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে রয়েছে মাতারবাড়ীর সমুদ্রবন্দর, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্প এবং সোনাদিয়া ও কুতুবদিয়া দ্বীপ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, যিনি দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাবেক দুবারের সংসদ সদস্য। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে একবার এই আসনে জামায়াত বিজয়ী হলেও সেটি বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন শর্তে ছিল। এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রধানত দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রিভূত।
কক্সবাজার-৩ আসনটি কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, যিনি দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, এবং বিশ্লেষকরা মনে করছেন লুৎফুর রহমান কাজলের বিপরীতে অন্য প্রার্থীরা কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে না।
কক্সবাজার-৪ আসনটি উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, যিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা নুরুল হক রয়েছেন। জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিতর্কের পর, মো. আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে ধানের শীষের সমর্থন জানান। ফলে ভোটের মাঠে শাহজাহান চৌধুরীর জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কক্সবাজার-১, ৩ ও ৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় জনপ্রিয়তার কারণে সহজ জয় পেতে পারেন। কক্সবাজার-২ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও, বিএনপির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন তাদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করছে।
প্রার্থীরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও স্থানীয় ইস্যুতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ ও লুৎফুর রহমান কাজল উভয়ই তাদের এলাকায় শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। শাহজাহান চৌধুরী এবং আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারের চার আসনের ভোটই রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।


