ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচারে নেমেছেন। গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই পর্বে প্রার্থীরা উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শুরুকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়েও প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে অবস্থান নিয়ে দলীয় প্রচারের সূচনা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-তে জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার শুরুর ঘোষণা দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় নেতাদের কবর জিয়ারত ও স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবার ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থী রয়েছে ২৮৮ আসনে, জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ আসনে, জাতীয় পার্টির ১৯২ আসনে এবং এনসিপির ৩২ আসনে। এ ছাড়া বাম ও ছোট দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। পাশাপাশি ২৪৯টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, কিছু আসনে প্রার্থীসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিপরীতে পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র দুজন প্রার্থী রয়েছে। বিভিন্ন আসনে তিন থেকে দশজন পর্যন্ত প্রার্থী থাকায় প্রতিযোগিতার ধরন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে।

প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে প্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতীক পাওয়ার পর অনেক এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা যায়। তবে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় একদিনে ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে একই কারণে আরও ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনী জোটগুলোর মধ্যেও সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। দশদলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশ হিসেবে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া কয়েকটি আসনে শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পার হলেও এসব বিষয়ে জোটের ভেতরে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে অন্তত ১৬ জন নারী প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে সর্বাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের নারী প্রার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

সার্বিকভাবে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এনেছে। আগামী দিনগুলোতে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী আচরণবিধি মানা নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তৎপরতাও বাড়ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ