আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীন সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রস্তুত—এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি চীনের সাম্প্রতিক জ্বালানি ব্যবহার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে এই বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে চীনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রগতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়।
ব্রিফিংয়ে গুও জিয়াকুন জানান, ২০২৫ সালে চীনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার ১০ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে, যা দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশেরও বেশি। তাঁর মতে, এই পরিসংখ্যান চীনের জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
চীনের সবুজ উৎপাদন সক্ষমতার প্রভাব কেবল অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, এই সক্ষমতা দক্ষিণের দেশগুলোর—বিশেষ করে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর—জন্য কম-কার্বন উন্নয়ন ও দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে চীনের অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন সক্ষমতা এসব দেশে জ্বালানি রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হচ্ছে।
গুও জিয়াকুন আরও বলেন, চীনের নতুন জ্বালানি পণ্য ও প্রযুক্তি উচ্চমানের এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই ও সুলভ জ্বালানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, এসব পণ্য ও প্রযুক্তি জীবাশ্ম জ্বালানির কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের নতুন পথ উন্মুক্ত করছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে জ্বালানি মূল্য ওঠানামা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বিকল্প উৎসের গুরুত্ব বাড়ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আফ্রিকার উদাহরণ তুলে ধরে চীনা মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন আফ্রিকার অর্ধেকেরও বেশি দেশের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহযোগিতায় যুক্ত হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় শত শত নতুন জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক উদ্যোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্প আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
গুও জিয়াকুন বলেন, সবুজ রূপান্তর কেবল পরিবেশ সুরক্ষা বা কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয় নয়; এটি মানব সমাজের টেকসই উন্নয়ন এবং সব দেশের সমান উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গেও যুক্ত। তাঁর মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের মাধ্যমে জ্বালানি বৈষম্য হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই বক্তব্য বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশই কার্বন নিরপেক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ অবস্থায় চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতি ও জ্বালানি ভোক্তা দেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিফিংয়ে গুও জিয়াকুন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গেও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, চীন আগামীতেও সব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যা বৈশ্বিক সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।


