ফিলিস্তিনে সাংবাদিক নিহত, গাজার বিমান হামলায় ত্রাণ ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্যবস্তু

ফিলিস্তিনে সাংবাদিক নিহত, গাজার বিমান হামলায় ত্রাণ ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্যবস্তু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বুধবার গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল আল-জাহরা এলাকায় চালানো এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন এএফপির ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ছিলেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিকদের বহনকারী একটি যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। নিহতদের মরদেহ পরে দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিহত সাংবাদিকরা হলেন মোহাম্মদ সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম। শাআত এএফপির সঙ্গে ফ্রিল্যান্স ভিত্তিতে কাজ করলেও হামলার সময় তিনি সংস্থাটির কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন না। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, হামলার সময় ওই সাংবাদিকরা মিশরীয় একটি ত্রাণ সংস্থার সাহায্য বিতরণের দৃশ্য ধারণ করতে ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মধ্য গাজা উপত্যকায় হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন পরিচালনাকারী কয়েকজন ‘সন্দেহভাজনকে’ লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রোনটি তাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল এবং নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে ড্রোনটি কীভাবে হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।

এর আগে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আল-জাহরা এলাকায় একটি বেসামরিক যান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় সাংবাদিকরা ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রমে ব্যবহারিক ছবি বা ভিডিও ধারণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। যদিও এতে ইসরাইলি বাহিনী এবং হামাসের মধ্যে বড় ধরনের সরাসরি লড়াই কমেছে, উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এসব নিহতের মধ্যে অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও ত্রাণকর্মী রয়েছে। সাম্প্রতিক এই বিমান হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

গাজা উপত্যকায় অবরুদ্ধ অবস্থা, নিয়মিত বিমান হামলা এবং সীমিত ত্রাণ প্রবেশের কারণে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং সংবাদকর্মীরা বিশেষ ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি নিয়মিত এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ