বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পকে সম্মান জানিয়ে বিলাসবহুল ঘড়ি উন্মোচন

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পকে সম্মান জানিয়ে বিলাসবহুল ঘড়ি উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমেরিকার বিলাসবহুল গয়না ও ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জ্যাকব অ্যান্ড কোং’ সম্প্রতি একটি বিশেষ সংস্করণের ঘড়ি উন্মোচন করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ মার্কিন ডলার। ‘ভান্তারা ওয়াচ’ নামের এই ঘড়িটি তৈরি করা হয়েছে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি ও তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ ‘ভান্তারা গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টার’-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ঘড়িটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়।

ভান্তারা গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টার ভারতের গুজরাট রাজ্যের জামনগরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় তিন হাজার একর জমির ওপর বিস্তৃত এই কেন্দ্রটি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত হয় এবং এর সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অনন্ত আম্বানি। এখানে আহত, নির্যাতিত ও বিপন্ন অবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার করে তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রটির লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বনির্ভর মডেল গড়ে তোলা, যেখানে প্রাণীদের প্রাকৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি রেখে তাদের যত্ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

উন্মোচিত ‘ভান্তারা ওয়াচ’-এর নকশায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘড়িটির ডায়ালের কেন্দ্রে হাতে আঁকা অনন্ত আম্বানির একটি প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে, যা তাঁর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রতিকৃতির চারপাশে সিংহ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শিল্পিত চিত্র রয়েছে, যা ভান্তারা অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত উল্লেখযোগ্য প্রাণীদের প্রতিনিধিত্ব করে। ডায়ালের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড সবুজ রঙের, যা প্রকৃতি ও বনভূমির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ঘড়িটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে মোট ৩৯৭টি রত্নপাথর, য deren সম্মিলিত ওজন প্রায় ২২ ক্যারেট। এর মধ্যে রয়েছে ডেম্যানটয়েড গারনেট, সাভোরাইট, সবুজ নীলকান্তমণি এবং সাদা হীরা। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি পাথর আলাদাভাবে নির্বাচন করে নিখুঁতভাবে বসানো হয়েছে, যাতে নকশা ও শৈল্পিক সৌন্দর্য বজায় থাকে। রত্নখচিত এই ঘড়িটি শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক উপস্থাপনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

তবে নকশাগত দিক থেকে ঘড়িটি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, জটিল নকশা ও ডায়ালে বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতির কারণে সময় নির্ভুলভাবে পড়তে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। তাদের মতে, ঘড়িটির শিল্পকর্মমূলক দিকটি সময় দেখার ব্যবহারিক সুবিধাকে আংশিকভাবে ছাপিয়ে গেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ঘড়ি সংগ্রাহক ও বিলাসবহুল ঘড়ি বিশ্লেষকদের একটি অংশ এই ঘড়িটিকে বিরল শিল্পকর্ম হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তাঁদের মতে, ‘ভান্তারা ওয়াচ’ প্রচলিত ঘড়ির ধারণার বাইরে গিয়ে শিল্প, প্রকৃতি ও ব্যক্তিগত দর্শনের সমন্বয় ঘটিয়েছে। বিশেষ সংস্করণের এই ঘড়িটি অনন্ত আম্বানির ব্যক্তিগত ঘড়ি সংগ্রহে একটি নতুন সংযোজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিলাসবহুল পণ্যের সঙ্গে সামাজিক ও পরিবেশগত বার্তা যুক্ত করার একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মতো একটি বৈশ্বিক গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এমন শিল্পকর্মভিত্তিক উপস্থাপনা নতুন আলোচনা ও আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেখাচ্ছে, কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সৃজনশীল শিল্প একত্র হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বার্তাকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ