বিনোদন ডেস্ক
বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক একটি বিমানযাত্রার সময় আসনসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী তার মায়ের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ করেছেন। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, একটি ফ্লাইটে ওঠার পর ভুলবশত তার মা কিয়ারা আদভানির নির্ধারিত আসনে বসে পড়েন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং আসন পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেন। তবে ইনফ্লুয়েন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কিয়ারা আদভানি পরিস্থিতিটি স্বাভাবিকভাবে নেননি; বরং তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং বয়স্ক ওই নারীর সঙ্গে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাটির সময় অভিনেত্রীর আচরণ অসংবেদনশীল ছিল।
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট হওয়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীদের একাংশ অভিযোগটি সমর্থন করলেও আরেক অংশ এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সমর্থনকারীরা বলেন, জনসমক্ষে পরিচিত ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক এবং যাত্রীদের প্রতি সৌজন্য দেখানো প্রত্যাশিত। অপরদিকে, সমালোচকরা মনে করেন, কোনও ভিডিও বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ যাচাই করা কঠিন। তাঁদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার একতরফা বর্ণনা অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি করে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিয়ারা আদভানি বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফেও ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিমানযাত্রায় আসনসংক্রান্ত বিভ্রান্তি নতুন নয়। বোর্ডিং পাসের ভুল পাঠ, কেবিন ক্রুর নির্দেশনা বুঝতে না পারা কিংবা তাড়াহুড়োর কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান এবং কেবিন ক্রুর সহায়তাই প্রচলিত পদ্ধতি। তবে কোনও ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হলে তা দ্রুত ব্যক্তিগত আচরণের মূল্যায়নে রূপ নেয়, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি জনপ্রিয় হন।
কিয়ারা আদভানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। জনসমক্ষে তার ব্যক্তিত্ব ও আচরণ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও বেশি। এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ যাচাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা জরুরি।
এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একদিকে এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ দেয়, অন্যদিকে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি করে। ফলে কোনও অভিযোগ বা দাবি ভাইরাল হলে তা নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও সামনে এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, বিমানযাত্রায় আসনবিতর্ক ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি ও পাল্টাদাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


