রাজনীতি ডেস্ক
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রতিটি নাগরিকের জানমাল রক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল এসব বক্তব্য দেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বিএনপি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি মহাসচিব একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা এবং আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি মহাসচিব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা কিংবা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টির যে কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর এবং জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাশা করে না।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী সময়কে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; বরং রাজনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি বলে তারা উল্লেখ করছেন।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দল হিসেবে তাদের অবস্থান ও উদ্বেগের বিষয়গুলো পুনরায় সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


