গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নতুন সরকারের কার্যক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে: জিএম কাদের

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নতুন সরকারের কার্যক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে: জিএম কাদের

রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে ভবিষ্যৎ নতুন সরকার কার্যত আজ্ঞাবহ অবস্থায় থাকতে বাধ্য হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের গণভোটের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক উদ্যোগ বলে তার ধারণা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণ ভোট দিক বা না দিক—সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যেভাবে মাঠে নেমেছে, তাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সহায়তায় হলেও ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করা হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে একটি তথাকথিত বিপ্লবী সরকার গঠনের দাবি তুলে গণভোটের ফলকে জনগণের ম্যান্ডেট হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংসদ ও নতুন সরকারকে নির্দিষ্ট কিছু শক্তির নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য করা হতে পারে। এতে সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হবে এবং সরকার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।” তার মতে, সংস্কারের নামে যে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা জনমতের প্রতিফলন নয় বরং চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

সংস্কার প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি কখনোই সংস্কারের বিরোধিতা করে না। তবে সংস্কার অবশ্যই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে চাকরি জীবনে এবং মন্ত্রিত্বকালে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের ইতিহাসে একজন উল্লেখযোগ্য সংস্কারক হিসেবে বিবেচিত। তবে বর্তমান প্রস্তাবিত সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দেখছেন বলে মন্তব্য করেন।

গণভোট নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে বলা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তার মতে, এসব বক্তব্য বাস্তবসম্মত নয় এবং এর মধ্যে বহু অস্পষ্টতা ও ঝুঁকি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে একটি সমান্তরাল শক্তি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে। তার আশঙ্কা, এই শক্তি নিজেদের বিপ্লবী সরকার হিসেবে উপস্থাপন করে দাবি করতে পারে যে, জনগণ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তখন সংসদ ও সরকারকে তাদের নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, এতে সংসদ কার্যত নির্দেশ মানার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই কাঠামো ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হবে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক দল ও বিরোধী পক্ষগুলোকে দুর্বল বা বিলুপ্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ দমনের নামে সহিংসতা ও দমনমূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিচারের নামে প্রহসনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আরও সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু এবং দলের অন্যান্য নেতারা।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ