রাজনীতি ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সারা দেশে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকায় অবস্থিত বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি মাজারে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
শফিকুল আলম বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হলে দেশে শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে উঠলে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অনিয়ম ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি রোধের সুযোগ তৈরি হবে বলে অনেকে মনে করছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে এবং ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে ভোট গণনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটারদের উদ্দেশে শফিকুল আলম শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোট প্রদান ও ভোট-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মাজার পরিদর্শনকালে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, বুচাই পাগলার মাজার দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘তৌহিদি জনতা’ পরিচয়ে একটি গোষ্ঠী বুচাই পাগলার মাজারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং বিভিন্ন মহল থেকে ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
গণভোটকে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। গণভোটের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের মতামত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয় এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের সম্ভাবনা থাকে।
এদিকে ধর্মীয় স্থাপনা সুরক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের স্থাপনায় হামলার ঘটনা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং তা রোধে প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে, গণভোটের প্রস্তুতি, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রেস সচিবের বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


