রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার পাশাপাশি ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উত্থাপন করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিবাগ স্কুল ও পুরাতন রমনা থানা জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাস। এ সময় তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বক্তব্যে শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, যা তার বয়স ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো সমীচীন নয়। তিনি জানান, এ ধরনের বক্তব্যে তার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো ক্ষতি হয় না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিক্রিয়া উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের একটি মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ তিনি প্রমাণ করতে পারবেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জয়ের বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য আসে, তখন নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, কোনো প্রার্থীই নিরাশ হয়ে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন না। তিনি অতীতে সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে এবারও জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তিনি। তার মতে, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের একটি অংশ বিশেষ কিছু প্রার্থীকে পরাজিত করার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা তাদের রয়েছে। এতে কারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা স্পষ্ট নয়, তবে এমন প্রচেষ্টা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ অবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবলের কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, মাঠপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা-৮ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে নগরজীবনের নানা সমস্যা, যেমন যানজট, আবাসন, নাগরিক সেবা ও আইনশৃঙ্খলা—নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। প্রচারণার প্রথম দিনেই মির্জা আব্বাস এসব বিষয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার সমাধানে তার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
প্রচারণাকালে তার সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তারা লিফলেট বিতরণ, পথসভা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
নির্বাচনি প্রচারণার এই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রার্থীদের বক্তব্য ও অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।


