রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটের সঙ্গে ধর্মীয় মুক্তির সম্পর্ক স্থাপনের প্রবণতাকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মের অপব্যবহার পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনসংযোগকালে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো প্রতীক বা মার্কা দেখে ভোট দিলে ধর্মীয় মুক্তি বা জান্নাতে যাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়—এমন ধারণা জনগণকে বিভ্রান্ত করে। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ একটি নাগরিক অধিকার; এর সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি জুড়ে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল আচরণ নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি ভোটের মাধ্যমে ধর্মীয় মুক্তি অর্জন করা যেত, তাহলে সবাই একই পথে যেত—বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিশ্বাস করেই বিএনপি রাজনীতি করে।
জনসংযোগকালে তিনি ধর্মের ভিত্তিতে সামাজিক বিভাজনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, সমাজে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন এবং সবাই মিলে দেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক দল ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করলে তা সামাজিক সংহতির জন্য ক্ষতিকর—এমন বক্তব্যও দেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, সকল ধর্মাবলম্বী নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সুস্পষ্ট।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলটি সমান অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করবে। তিনি দলের ঘোষিত কিছু কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং কৃষিখাতে সহায়তা। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে—এমন লক্ষ্য নিয়ে দলটি পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রদানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষিখাতের প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও ও বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ টানেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ বিএনপি সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল, যা বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বরেন্দ্র এলাকার পানির ব্যবহার করে কৃষকরা নিয়মিত ফসল উৎপাদন করতে পারছেন—এমন তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ধর্মীয় অনুভূতির ব্যবহার নিয়ে সতর্কতার আহ্বান জানান এবং উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সমানাধিকারের প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপির নীতিগত অবস্থান ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
জনসংযোগ কর্মসূচিতে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


