মব রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদল সভাপতির

মব রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা ছাত্রদল সভাপতির

রাজনীতি ডেস্ক

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে সংঘটিত মব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং এর মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আয়োজিত এক জনসভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ সহিংসতা ও চাপ প্রয়োগের প্রবণতার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী ধর্মের আবরণে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘ সময় ধরে সহ্য করা হলেও এখন থেকে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি বা সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা রাষ্ট্র ও সমাজ—কোনোটির জন্যই কল্যাণকর নয়।

রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ধর্মের নামে আইন লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যেতে না পারে। তার বক্তব্যে সামাজিক প্রতিরোধের কথাও উঠে আসে, যা তিনি আইনগত কাঠামোর মধ্যেই দায়িত্বশীল নাগরিক ভূমিকা পালনের আহ্বান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ও কর্মসূচির একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছাত্রসমাজসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্ধারিত সময় ও কর্মসূচিতে জনগণের মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই দলের কৌশল। তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

জনসভায় রাকিবুল ইসলাম আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ছাত্রসমাজকে সংগঠিত ও সচেতন থাকতে হবে। তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সহিংসতা বা উগ্রতা নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক চর্চাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। ছাত্রদল সভাপতির এই বক্তব্যকে বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জনসভাটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ