রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এরপর সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, একই দিন বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা-১৭ আসনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন।
আরাফাত রহমান কোকো বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একজন পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি মূলত ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। কোকো ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল আলোচিত।
জীবনের একটি পর্যায়ে আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যা ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার পরিচয় বহন করে।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে বছর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে তিনি তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঢাকার সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আরাফাত রহমান কোকো সপরিবারে ব্যাংককে যান। চিকিৎসা শেষে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে শুরু করেন। সেখানেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর। তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু বিএনপির জন্য একটি শোকাবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে দোয়া, মিলাদ মাহফিল এবং কবর জিয়ারত প্রধান। দলীয় নেতারা এসব আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এ বছরের মৃত্যুবার্ষিকীতেও বিএনপি একই ধারাবাহিকতায় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়াত এই ক্রীড়া সংগঠককে স্মরণ করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক সংযোগ বজায় রাখার দিকটিও গুরুত্ব পাচ্ছে।


