উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা

উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা

রাজনীতি ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার উত্তরবঙ্গের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুর জেলায় একাধিক নির্বাচনি জনসভায় অংশগ্রহণ করে এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নশীল অঞ্চলে রূপান্তর করা সম্ভব এবং এ জন্য প্রয়োজন নির্ধারিত পদক্ষেপ।

পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি যুক্ত করেছেন, স্থানীয় সম্পদ ও কৃষিপণ্যকে ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের নদীগুলোর পুনর্গঠন ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। পঞ্চগড় ও তার আশপাশের এলাকা পর্যায়ক্রমে উন্নতমানের হাসপাতাল ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দিনাজপুরে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। আলু ও লিচু সংরক্ষণের জন্য বিশেষ সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হবে এবং দিনাজপুরকে আধুনিক শহর হিসেবে উন্নয়ন করা হবে। তিনি জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের করা হবে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বেকারত্ব কমাতে যুবকদের জন্য প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ঘরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বলা হয়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব রোধ করা হবে এবং জনগণকে ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২ আসনের নির্বাচনী প্রার্থীদের হাতে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জোটের প্রার্থী সারজিস আলম ও সফিউল আলমসহ ১০ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, সারাদেশের ৬৪ জেলায় উন্নতমানের হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং বঞ্চিত এলাকায় আগে সেবা দেওয়া হবে। তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি জানিয়েছেন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। রংপুরে জনসভায় তিনি প্রথম তিস্তায় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ও কৃষি সম্পদ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন দ্রুত সম্ভব।

জামায়াত আমিরের উত্তরবঙ্গ সফরে স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা পরিচালনা করেন। পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে সমাবেশে এলাকাবাসীর উপস্থিতি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লক্ষ্যণীয় ছিল। তিনি সফরের দ্বিতীয় দিনে রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন—পঞ্চগড় প্রতিনিধি হোসেন রায়হান, দিনাজপুর প্রতিনিধি মাহবুবুল হক খান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ফজলে ইমাম বুলবুল ও রংপুর অফিস প্রধান বাদশাহ ওসমানী।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ