চাঁদপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

চাঁদপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

রাজনীতি ডেস্ক

চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে বিএনপির ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোট চাওয়ার নামে বেহেস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, ‘কাউকে ভোট দিলে যদি বেহেস্ত পেত, তাহলে মানুষ আর ধর্মকর্ম করত না।’

শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১ নং সাচার ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে তার নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিলন আরও বলেন, তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন শিক্ষাঙ্গনে পরীক্ষা নকলমুক্ত করেছেন, চাঁদপুরে জাটকা ইলিশ নিধন বন্ধ করেছেন এবং লঞ্চঘাট সঠিক স্থানে স্থানান্তর করে যাত্রীদের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা কমিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে কচুয়া উপজেলাকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষানগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে কচুয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ওলামা দলের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মাওলানা আবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সহসভাপতি আব্দুল খালেক, উপজেলা উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ড. মিলনের বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও পূর্ববর্তী সরকারি পদে অর্জিত কাজগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ, এবং যাত্রীসুবিধার জন্য লঞ্চঘাট পুনর্বিন্যাসের উল্লেখ স্থানীয় ভোটারদের কাছে তার কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কচুয়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগে এ ধরনের প্রচারণা এলাকার ভোটারের মনোভাব ও সমর্থন যাচাই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটের আগে প্রার্থীর অতীত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের সভা প্রার্থীর জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের কাছে তার অর্জন ও পরিকল্পনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে, ভোটারের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনাও থাকে।

চাঁদপুর-১ কচুয়া আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রভাবে চলছে। এই আসনে বিভিন্ন দল তাদের প্রার্থী ও নির্বাচনী প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কাছে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। প্রার্থী এবং দলের পক্ষ থেকে কার্যক্রমগুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটারের সচেতন অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ড. মিলনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা কচুয়া উপজেলার রাজনৈতিক চিত্র এবং ভোটারের মনোভাব পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ