ছাত্র শিবির সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের তথ্য

ছাত্র শিবির সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতার বিতর্কিত মন্তব্য, নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের তথ্য

 

রাজনীতি ডেস্ক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় শুক্রবার রাতে কাশিনগর ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি ছাত্র প্রতিনিধি সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দের কাছে বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে তাদের অনেক সমর্থক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজের ছাত্রদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা।

সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আল্লাহর রাসুলের যুগে ফরাসি শাসক ও তৎকালীন শাসকবৃন্দের অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও অনুরূপ ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে।” এই বক্তব্যে তিনি বর্তমান ও প্রাক্তন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাসিম মিয়া, সেক্রেটারি আবুল বাশার, কেন্দ্রীয় মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক আলা উদ্দিন আবির, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহ মিজানুর রহমান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন রনি, বর্তমান সেক্রেটারি নুর ইসলাম মোল্লা, কাশিনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মহসিন কবির, চৌদ্দগ্রাম সদর শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও পৌরসভা সভাপতি হোসাইন আহমেদ।

সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামের শিবির সভাপতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সমর্থনে কাশিনগর বাজারে মিছিল করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং সমাজের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হওয়ার প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যকে মেলানো শাখায় ছাত্রদের অংশগ্রহণ দেশের শিক্ষার্থী ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

কুমিল্লার স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নজর রাখছে। তারা বলেছে, সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই নির্বাচনী আইন ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে।

এদিকে, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের এই ধরনের বক্তব্য নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মতবিনিময় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ