রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্ম কোনোভাবেই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের অন্তরের বিষয়। তিনি বলেন, জামায়াত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে এবং বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে নয়, একটি মর্যাদাসম্পন্ন ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। শুক্রবার রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে জামায়াতের আমির দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জামায়াত মানুষের কাছে অবাস্তব বা বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না। বেকার ভাতা প্রদানের পরিবর্তে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই দলের লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, মর্যাদাসম্পন্ন কাজের সুযোগ তৈরি করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে বেকারত্বের মূল সমস্যা সমাধান সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দেয়। তিনি দাবি করেন, অতীতে দলটি ক্ষমতার অংশীদার থাকার সময় মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি কিংবা নিরীহ মানুষকে হয়রানির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে মিথ্যা মামলা বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের সংস্কৃতির বিরোধিতা করে জামায়াত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রংপুর ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, এ অঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভান্ডার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তাঁর মতে, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে এই অঞ্চলে কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনার কথা ভাবছে জামায়াত। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রংপুর অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, তিস্তা নদীকে ঘিরে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে কৃষি উৎপাদন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে তিস্তা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকার পরিচালনায় দলের সক্ষমতার প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পূর্বে দলের নেতারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি বলে জামায়াতের দাবি। এই অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খান। সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসনের প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর-১ আসনের প্রার্থী রায়হান সিরাজী এবং জেলা জামায়াতের আমির ও রংপুর-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগতুল্লাহ সিগবাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।


