ঢাকা-১১ আসনে সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা জানালেন নাহিদ ইসলাম, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ঢাকা-১১ আসনে সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা জানালেন নাহিদ ইসলাম, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক
দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ শুরুর আগে তিনি এসব কথা বলেন।

গণসংযোগ কর্মসূচির প্রাক্কালে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে ভোটারদের কেন্দ্রে আসা ও ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ রয়েছে এবং সেই আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধার আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব আশ্বাস বাস্তবায়নের বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং এর মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কিছু এলাকায় ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করা হয়েছে বলে তার কাছে অভিযোগ এসেছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশে ভয় সৃষ্টি হলে ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। এ কারণে ভোটারদের কোনো ধরনের ভয় না পাওয়ার এবং নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে দলের কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আইন ও আচরণবিধির মধ্যে থেকে দলের কর্মীদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা যায়।

ঢাকা-১১ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সাধারণত তীব্র হয়ে থাকে। ফলে এখানে নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসন, প্রার্থীরা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তায়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা দল ভোটারদের আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না। এছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। নাহিদ ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসব বিধি মেনে চলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রচার-প্রচারণা জোরদার করেছে। গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে পুনরায় উল্লেখ করেন, ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব এবং সে লক্ষ্য অর্জনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিকল্প নেই।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ