রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চিকিৎসক তাসনিম জারা তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই ইশতেহারে তিনি ঢাকা–৯ এলাকার নাগরিক সেবা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও জনপ্রতিনিধির জবাবদিহিতা—এই ছয়টি খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ইশতেহারে স্থানীয় সমস্যার চিত্র, বিদ্যমান সেবার সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য নীতিগত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারের শুরুতে ঢাকা–৯ এলাকার নাগরিক সেবার মান নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরা হয়। গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে প্রার্থী জানান, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির আলোকে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল আদায় পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতির সময় বিকল্প হিসেবে ন্যায্য মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্ষা মৌসুমের আগে নর্দমা ও খাল পরিষ্কার এবং সড়ক খননের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেন।
স্বাস্থ্য খাতে ঢাকা–৯ এলাকার জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা সুবিধার স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ইশতেহারে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পাড়াভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক করে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মৌসুমি কার্যক্রমের পরিবর্তে বছরব্যাপী সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নারীস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েদের সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং গণস্থানে নারী-বান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
নিরাপত্তা বিষয়ে ইশতেহারে মাদক ব্যবসা ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পাঞ্চল ও ব্যস্ত সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে গণপরিবহনে সংরক্ষিত আসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা খাতে ইশতেহারে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, ভাষা ও প্রযুক্তিভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-অভিভাবক ফোরাম সক্রিয় রাখা এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
অর্থনীতি ও জীবিকা অংশে তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারীদের সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। প্রার্থী তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক পুঁজি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত উদ্যোগের কথা বলেন। কর্মজীবী মায়েদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার চালু এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহারের শেষ অংশে জনপ্রতিনিধির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী কার্যালয়, নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার সমস্যা দ্রুত সমাধান ও অগ্রগতির অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়।


