রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় বাস্তবায়িত হলে এক কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল ভোটারদের কাছে ভীতি ও চাপে না ভয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আগে নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। এবার নৌকা প্রতীক আমাদের কাছে নেই। রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন দলগুলো উঠে এসেছে।” তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের লক্ষ্য জনগণের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের উন্নয়ন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “১৯৭১ সালে জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা দেশ ছেড়ে যাইনি; যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জামায়াত ভোটের জন্য দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে এসেছে, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং এক সময় অনেককে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। তারা লুটপাটও করেছে। বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও জানান, ধানের শীষ বিজয়ের মাধ্যমে জনগণকে সরাসরি সেবা দেওয়া হবে। তিনি বলছেন, নির্বাচিত হলে পরিবারভিত্তিক কার্ড দেওয়া হবে, যা মা-বোনদের জন্য চাল-ডালসহ ন্যায্যমূল্যের কৃষি উপকরণ, সার ও কীটনাশক প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির মধ্যে কৃষি খাত ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হলে ভোটারদের মধ্যে তা প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশে কৃষি ও স্বল্পোন্নত জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রধান প্রতিযোগিতামূলক হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষি খাতের সঙ্গে জড়িত কর্মসংস্থানের পরিধি ব্যাপক। এই খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সহায়তা ও সার্বজনীন সেবা প্রদানের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি মহাসচিবের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট প্রদান করে।
ঠিকানা ও পরিষেবার প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নযোগ্য কিনা তা নির্বাচনের পর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে ভোটারদের কাছে তুলে ধরা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন নয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের গণসংযোগে উপস্থিত সাধারণ জনগণ এবং স্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এমন ঘোষণার প্রভাব প্রাসঙ্গিক।


