রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বগুড়াকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেসা মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার মতে, নগর অবকাঠামো, শিক্ষা ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন ঘটিয়ে বগুড়াকে একটি পরিকল্পিত ও সমৃদ্ধ শহরে পরিণত করা সম্ভব। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
দুর্নীতি ও অপরাধ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দলীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। বক্তব্যে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন এবং নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
নারী অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তার মতে, নারীরা যোগ্যতা ও ইচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পাবে এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
যুবসমাজের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তরুণদের বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় কেবল ভাতানির্ভর উদ্যোগ নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দেওয়া উচিত। তিনি জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তার বক্তব্যে বলা হয়, তরুণদের সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।
সমাবেশে তিনি ১০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন কামনা করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ন্যায়বিচার, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সমন্বয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, পৌরসেবা সম্প্রসারণ এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন, আর্থিক বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
সমাবেশে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ ও গণসংযোগ অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও নীতিগত অবস্থান ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নযোগ্যতা, সময়সূচি এবং অর্থায়ন কাঠামো পরবর্তী সময়ে জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।


