খেলাধূলা ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। বিসিবির এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিসিবির অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মোখলেসুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে সদ্য সমাপ্ত বিপিএল মৌসুমের শেষ দিকে। বিষয়টি প্রথম অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা প্রতিবেদক রিয়াসাদ আজিম তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন।
বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান সাবেক আইসিসি ইন্টেগ্রিটি ইউনিট প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তার হাতে বোর্ড গঠিত একটি স্বাধীন কমিটির করা আগের বিপিএল মৌসুমে দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন রয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে।
মোখলেসুর রহমান গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির পরিচালক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে বোর্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেছেন। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ দলের ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত আইসিসির সঙ্গে বোর্ডের চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছে।
চলতি মাসে মোখলেসুর রহমান দ্বিতীয় বিসিবি পরিচালক হিসেবে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ক্রিকেটারদের নিয়ে করা অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিপিএলের কিছু ম্যাচ বয়কট হয়। পরবর্তীতে বিসিবি নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়, তবে তিনি পরিচালক পদে থাকেন এবং শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্টস বক্সে বসে বিপিএলের ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করেন।
মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই তদন্তকে কেন্দ্র করে বিসিবির শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বোর্ডের জোর দেওয়া হয়েছে। ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের মাধ্যমে তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিসিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের তদন্ত প্রক্রিয়া দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং নৈতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ফলাফল শেয়ার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা, দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবেলার প্রক্রিয়া এবং ক্রিকেট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া পুনঃমূল্যায়নের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করা হচ্ছে।


