ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

খেলাধূলা ডেস্ক

ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খসড়ায় উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি এই সিদ্ধান্ত নেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলেও বিসিবি অবস্থান পরিবর্তন করেনি। এর ফলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজক দেশ ও আইসিসির যৌথ দায়িত্ব। বিসিবির সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ ছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আয়োজক দেশে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিসিবি এই অবস্থান গ্রহণ করেছে। আইসিসির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আইসিসির নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি এক সাক্ষাৎকারে বিসিবির সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য যদি আয়োজক দেশে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে, তবে সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে।

নাজাম শেঠি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনাকারী সংস্থার উচিত সব সদস্য দেশের সঙ্গে সমান আচরণ নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, বড় ও প্রভাবশালী ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর অবস্থান যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি অন্যান্য বোর্ডগুলোকেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান, যাতে আইসিসির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় থাকে।

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আলোচনা ক্রিকেট মহলে শোনা গেলেও পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে নাজাম শেঠি বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু বোর্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় সাহসী অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি ক্রিকেট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি প্রতিযোগিতার কাঠামো ও গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তন আনবে। স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির ফলে সহযোগী দেশগুলোর জন্য বড় মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা দেখানোর আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য এটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা ও র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। আয়োজক দেশ নির্বাচন, অংশগ্রহণকারী দলের উদ্বেগ নিরসন এবং আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণ নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন ক্রিকেট অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ