অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের অগ্রযাত্রার খবরের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬০ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি শক্তিশালী মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাহিনী ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে তেহরানকে সতর্ক করে তিনি উল্লেখ করেছেন, কোনো বিক্ষোভকারীকে লক্ষ্যবস্তু করা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। ইরান ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো রক্ষায় অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই সামরিক মোতায়েন ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত কৌশলগত বিকল্প এনে দেবে। এতে একদিকে অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের কিছুটা দুর্বলতার কারণে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি থাকতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান সেই পূর্বাভাসকে আপাতত অনিশ্চিত করেছে।
এর আগে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে মার্কিন নীতি কিছুটা নরম হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু ইরান অভিমুখে মার্কিন রণতরি বহরের অগ্রযাত্রার খবরে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে। তেল খাতের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে মনোযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়াচ্ছে এবং তেলের দামকে অস্থির রাখছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ভরশীল। বাজার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন, যে কোনো সামরিক উত্তেজনা দ্রুত মূল্যশৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে।


