রাজনীতি ডেস্ক
সীতাকুণ্ড উপজেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে কৃষি, শিল্প ও পর্যটনের সমন্বয় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস এবং জাতীয় অর্থনীতিতে সীতাকুণ্ডের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড একটি অঞ্চল যেখানে কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ তিন খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হয়নি। কৃষি ও শিল্পের সমন্বয় ঘটালে শুধুমাত্র বাড়বকুণ্ড নয়, পুরো সীতাকুণ্ড একটি অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে।
লায়ন আসলাম চৌধুরী আরও বলেন, বড় প্রকল্পের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা জরুরি। এতে করে গ্রাম থেকে শহর—সব অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দেশের কোনো এলাকা অবহেলিত থাকবে না। তিনি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে কৃষিনির্ভর শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
সীতাকুণ্ডের সার্বিক উন্নয়নে শিল্পায়নের ভূমিকা নিয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সুশাসনের গুরুত্বের ওপরও তিনি জোর দেন। লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেন, সুশাসন ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। সুশাসন নিশ্চিত করা না হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যর্থতার মুখোমুখি হবে। তাই উন্নয়ন ও সুশাসনের মধ্যে দৃঢ় মেলবন্ধন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠিত হলে দলমত নির্বিশেষে সকল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভা বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বদিউল আলম বদরুলের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আওরঙ্গজেব মোস্তাফারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গাজী মো. সুজাউদ্দিন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরছালিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এবারের মতবিনিময় সভা স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নীতি নির্ধারণে সমন্বয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সীতাকুণ্ডের কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগালে উপজেলা তথা জেলার সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


