আইন আদালত ডেস্ক
দেশব্যাপী চলমান বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর আওতায় এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৮৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পুলিশের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ফেজ-২ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র বহন, বিস্ফোরক মজুদ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে উদ্ধার করা সামগ্রীর বিবরণে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ৪৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজার ৭৭০ রাউন্ড গুলি এবং ৭৮৬ রাউন্ড কার্তুজ। বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৩৭টি ককটেল ও ১৪টি বোমা। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ায় বিশেষ এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্টের লক্ষ্য হলো অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফেজ-২ শুরুর মাধ্যমে অভিযানের পরিধি ও তৎপরতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার ফলে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সক্রিয় অপরাধী গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সহিংস অপরাধ কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনি প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এবং নতুন করে অপরাধে জড়িতদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলা ছাড়াও নতুন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যের উৎস এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ চলমান থাকবে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করছে পুলিশ।


