জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা স্থগিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা স্থগিত

শিক্ষা ডেস্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার মাঝেই একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি সমাবেশ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটি রোববারের জন্য নির্ধারিত সব ম্যাচ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধূপখোলা মাঠে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা চলমান থাকা অবস্থায় একই স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এতে করে নির্ধারিত খেলাগুলো আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করেন, খেলার সময়সূচি থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও সমন্বয় প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে, যখন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমাবেশসংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেন। ওই পোস্টে রোববার দুপুরে সমাবেশ আয়োজনের সময় উল্লেখ করা হয়। এর পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে এটিকে জকসুর একজন প্রতিনিধির দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জকসুর একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণায় সরাসরি যুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি খেলার মাঠের ব্যবহার নিয়ে ক্রীড়া কমিটি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত হয়েছে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের অবস্থা, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় না নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সদস্য সচিব ও শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের উপ-পরিচালক গৌতম কুমার দাস রোববারের ম্যাচগুলো স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় রোববারের জন্য নির্ধারিত সব খেলা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও দলকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ক্রীড়া কমিটির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রোববার দর্শন বনাম মনোবিজ্ঞান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বনাম রসায়ন এবং লোকপ্রশাসন বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব ম্যাচ স্থগিত হওয়ায় প্রতিযোগিতার সামগ্রিক সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রইছ উদ্দিন জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে একাধিক দিন খেলা বন্ধ থাকলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে পুরো প্রতিযোগিতাই বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

সমালোচনার মুখে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম জানান, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থই তাঁর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খেলা স্থগিতের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, তবে এক দিনের বেশি যেন খেলা বন্ধ না থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধূপখোলা মাঠে সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং রিটার্নিং অফিসারের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সমালোচনার পর রাতে দেওয়া আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক দাবি করেন, মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমতি না থাকলেও মৌখিক সম্মতি ছিল এবং মাঠের পূর্ণ কর্তৃত্ব সিটি করপোরেশনের অধীনে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপাচার্যের নির্দেশেই খেলা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থী রাজনীতি, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ