আইন আদালত ডেস্ক
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২১ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযান চলাকালীন বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ফেনসিডিল, মাদক সিরাপ ও ব্যক্তিগত সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাঘাডাংঙ্গা, কুমিল্লাপাড়া এবং খোসালপুর বিওপির টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ২১ জন বাংলাদেশিকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, সাতজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছেন। এদের মধ্যে ঝিনাইদহ, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজাপুর ও কুমিল্লাপাড়া বিওপির এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৯০ বোতল মাদক সিরাপ এবং হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার চেইন ও কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। এসব সামগ্রী অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল বলে বিজিবি ধারণা করছে।
অভিযানের পর আটককৃত ব্যক্তিদের মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবি বলেছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারা অবৈধ সীমান্ত পারাপারের জন্য দায়ী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে অবৈধ পারাপার, মাদক পাচার ও সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। বিজিবি স্থানীয় কমিউনিটি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে বিজিবির নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অবৈধ পারাপার ও মাদক তৎপরতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, সীমান্ত এলাকা বিস্তৃত হওয়ায় পুরোপুরি প্রতিরোধ করা কঠিন। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নারীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, উদ্ধারকৃত মাদক ও অবৈধ পণ্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ও ধ্বংস করা হবে।
ঝিনাইদহ সীমান্তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অভিযান স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়ভাবে প্রমাণ করছে। নিয়মিত টহল ও অভিযান অবৈধ পারাপার, মাদক এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছে।


