রাজনীতি ডেস্ক
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ২ নম্বর ইশানিয়া ইউনিয়নের দকচাই গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকে এ যোগদান সম্পন্ন হয়। যোগদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম হারুনুর রশিদ (গেজেট নম্বর–১১৫১)। তিনি একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দকচাই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম গোলাম কাদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উক্ত উঠান বৈঠকে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এ কে এম আফজালুল আনাম উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতিতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন। এ সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ তার বক্তব্যে জানান, তিনি এর আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি এখন একটি রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং দলের নিয়ম-কানুন মেনে চলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তার উপলব্ধি অনুযায়ী দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহবুব আলম তার বক্তব্যে বলেন, এর আগেও এলাকায় একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দলে যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদের যোগদানকে দলটি ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং এ ঘটনায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নেতা আমিনুল হক, ২ নম্বর ইশানিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুল বাতেনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মী। তারা সবাই এ যোগদান অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুক্তিযুদ্ধ দেশের ইতিহাসের কেন্দ্রীয় অধ্যায় হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে থাকে, যা দলীয় রাজনীতির পরিধি বিস্তারের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে উঠান বৈঠক দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত একটি মাধ্যম। এসব বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে থাকে। শনিবারের এই বৈঠকও তেমন একটি সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৎপরতা নিয়মিত দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নতুন সমর্থক যুক্ত করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি জোরদার করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদের যোগদানকে সেই ধারাবাহিকতার একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই যোগদানের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে। বর্তমানে এটি বোচাগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


