ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা জানালেন তারেক রহমান

ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা জানালেন তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া জটিল হলেও আইন পরিবর্তন ছাড়াই তা সহজীকরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতায় পড়া তরুণদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

রোববার সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে ‘ইউথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতিগত অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধাপে জটিলতা রয়েছে, যা উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, সব আইন একসঙ্গে পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঋণপ্রক্রিয়া সহজ করা যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সহজীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অনেক মেধাবী তরুণ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলেও ভিসা ফি, টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচের কারণে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা করছে, যাতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা স্বল্পসুদে বা সহজ শর্তে ঋণ পেয়ে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পায়। তিনি জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

পরিবেশ ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিএনপি ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণকে উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে চায়। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ৫০ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান তিনি। তার মতে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও নগর-গ্রামীণ পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমন নিয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এই সমস্যাকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে— পেশাদার অপরাধী এবং মৌসুমি বা পরিস্থিতিনির্ভর অপরাধী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট হলে অপরাধ ও দুর্নীতির একটি বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাকি অংশ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নারী ও পুরুষের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার মাধ্যমে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিরাপদ সমাজ গঠন রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

অনুষ্ঠানে তরুণ শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ